মূল কন্টেন্টে যান
← বইয়ের পেজকোন ইমোজির কি মিনিংনমুনা

ইমোজিনামা

কোন ইমোজির কি মিনিং

০

মুখবন্ধ

একটা সত্যি কথা দিয়েই শুরু করি: এই বইয়ে ইমোজির কোনো নির্দিষ্ট অর্থের তালিকা তথা ‘অভিধান’ নেই। কারণ, ইমোজির মানে পরিস্থিতি ও মানুষ অনুযায়ী বদলায়। ভুল জেনে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার চেয়ে, না-জানাটুকু জেনে রাখা ঢের ভালো।

বইটিতে কেন ইমোজির অর্থের অভিধান নেই?

  • অর্থের ভিন্নতা: গবেষণায় দেখা গেছে, ১,২৮৯টি ইমোজির মধ্যে মানুষ মাত্র ১৬টিতে (১%-এর সামান্য বেশি) পুরোপুরি একমত হয়েছেন। যে জিনিসের অর্থ নিয়ে মানুষই একমত নয়, তার অভিধান বানানো অবাস্তব।
  • ভুল বোঝাবুঝির ঝুঁকি: তালিকা ধরে সন্তানের বা ক্রেতার পাঠানো ইমোজির ভুল মানে বের করলে সম্পর্ক বা ব্যবসায় বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।
  • গুজব ও আংশিক তথ্য: ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা ইমোজির "গোপন মানের" বেশিরভাগেরই কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই।

এই বই কার জন্য এবং কী দেবে?

যিনিই মেসেজ লিখে অন্যকে কিছু বোঝাতে চান.. তা ঘরের গ্রুপ হোক, সন্তানের সাথে চ্যাট হোক, কিংবা অনলাইনে কোনো ব্যবসা হোক; বইটি তার জন্যই। গুগল বা ফ্রি ইন্টারনেট সাইটগুলো আপনাকে ইমোজির অর্থের ব্যাপারে একটা ভুয়া নিশ্চয়তা দেবে। কিন্তু এই বই আপনাকে মুখস্থ করাবে না, বরং পরিস্থিতি বুঝতে শেখাবে। এখানে আপনি পাবেন:

  • ইমোজি পড়ার, পাঠানোর এবং যাচাই করার সঠিক অভ্যাস।
  • মেসেজ সেন্ড করার আগে ১০ সেকেন্ডের একটি দ্রুত যাচাই পদ্ধতি (কাকে পাঠাচ্ছেন, মেসেজের সুর কী, ভুল হলে ক্ষতি কার)।

বইটি কীভাবে সাজানো?

মোট ৯টি ছোট অধ্যায়ে বইটি সাজানো।

  • প্রথমে জানবেন ইমোজি আসলে কী এবং কেন একই ইমোজি দুজন মানুষ দুরকম বোঝে।
  • এরপর আলোচনা করা হয়েছে সেসব জায়গা নিয়ে, যেখানে ভুল বোঝাবুঝির দাম সবচেয়ে বেশি (পরিবার ও ব্যবসা)।
  • একদম শেষে হাতে পাবেন পাঠানোর আগে চট করে দেখে নেওয়ার মতো একটি চেকলিস্ট।

এই বই আপনাকে ইমোজির অর্থ মুখস্থ করাবে না, বরং স্ক্রিনের ওপাশের মানুষটা কী বুঝবে, তা আগেভাগে আঁচ করার দক্ষতা তৈরি করবে।

১

ইমোজির নাম আছে, গৎবাঁধা মানে নেই

একটা কথা ভাবুন তো। বাংলা বর্ণমালা শিখতে আপনার হয়তো বছরখানেক লেগেছিল। 'ক' থেকে 'ৎ', কোথায় মাত্রা বসে আর কোথায় বসে না, য-ফলা কীভাবে কাজ করে, এসব হাতে ধরে শেখানো হয়েছিল। কিন্তু ইমোজি? ওটা তো আপনি কোনোদিন আলাদা করে শেখেননি। কেউ আপনাকে খাতা খুলে বুঝিয়ে দেয়নি 😂-এর মানে কী, কিংবা বসকে 🙂 পাঠানো নিরাপদ কি না। তবু প্রতিদিন অন্তত বিশ-পঁচিশবার এগুলো ব্যবহার করছেন। আর ঠিক এখানেই আমরা একটা ভুল করে বসি। আমরা ভাবি, না শিখেই যেহেতু দিব্যি চালাচ্ছি, তার মানে নিশ্চয়ই এর অর্থও ঠিকঠাক বুঝি। এই বই শুরু হচ্ছে সেই ধরে নেওয়াটিতেই একটু টোকা দিয়ে।

ইমোজির জন্ম হয়েছিল মূলত একটি অভাব থেকে। সামনাসামনি কথা বলার সময় আপনি শুধু শব্দ শোনেন না; মানুষটার মুখের ভাব দেখেন, গলার স্বরের ওঠানামা টের পান। বুঝতে পারেন তিনি কখন ঠাট্টা করছেন আর কখন সিরিয়াস। কিন্তু লিখিত আলাপে এসব হারিয়ে যায়। মুখে বলা নরম একটা "আচ্ছা" শুধু টাইপ করে পাঠালে রুক্ষ মনে হতে পারে। ইমোজি হলো সেই হারানো মুখের ভাব লেখায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। একটা 🙂 জুড়ে দিয়ে আমরা যেন বোঝাতে চাই, "রাগ করে বলিনি, হেসেই বলছি।" মুশকিল হলো, এই ভাবটা সবসময় ঠিকঠাক পৌঁছায় না। কেন পৌঁছায় না, সেটাই এই বইয়ের মূল গল্প।

ইমোজি আসলে ছবি নয়

খুব চেনা একটা দৃশ্য দিয়ে শুরু করা যাক। কখনো কি এমন হয়েছে যে আপনি একটা মেসেজ পাঠালেন, আর ওপাশ থেকে জবাব এল, "কী পাঠালে? আমার ফোনে তো শুধু একটা চৌকো বাক্স দেখাচ্ছে?" আপনি হয়তো পাঠিয়েছিলেন ঝকঝকে একটা ইমোজি, অথচ প্রাপকের কাছে পৌঁছাল খালি একটা □। কিংবা ধরুন, আপনি একটা 👍 দিলেন, কিন্তু পরে খেয়াল করলেন আপনার পাঠানো আঙুলের রঙের সঙ্গে বন্ধুর স্ক্রিনের রং মিলছে না। এমন হলে প্রথমেই মনে হয় ফোন গণ্ডগোল করছে বা ইন্টারনেট দুর্বল। আসলে এর কোনোটিই নয়। পেছনের কারণটা জানলে ইমোজিকে আপনি আর আগের চোখে দেখবেন না।

মূল ব্যাপারটা হলো, ইমোজি পাঠানোর সময় আপনি আসলে কোনো ছবি পাঠান না; আপনি পাঠান একটা কোড বা নির্দিষ্ট নম্বর। পৃথিবীর প্রায় সব ফোন এবং অ্যাপ Unicode নামের একটি সাধারণ তালিকা মেনে চলে। ওই তালিকায় প্রতিটি ইমোজির জন্য আলাদা কোড ঠিক করা আছে। আপনি যখন হাসিমুখ পাঠান, আপনার ফোন হাসিমুখের ছবি পাঠায় না, পাঠায় কেবল কোডটা। প্রাপকের ফোন সেই কোডটি পড়ে এবং নিজের মতো করে একটা ছবি এঁকে স্ক্রিনে দেখায়। অর্থাৎ, ছবিটা আঁকে প্রাপকের ফোন, আপনার ফোন নয়।

"ছবি নয়, কোড", এই ব্যাপারটার একটা চমৎকার দিক আছে। আপনি হোয়াটসঅ্যাপ থেকে একটা ইমোজি কপি করে ফেসবুকে বা ইমেইলে পেস্ট করলে সেটি দিব্যি কাজ করে। কারণ যা যাচ্ছে তা ছবি নয়, স্রেফ কোড। নতুন জায়গায় গিয়ে অ্যাপটি আবার নিজের মতো করে ছবিটা এঁকে নেয়। অন্যদিকে, ইমোজির স্ক্রিনশট নিলে তা সাধারণ ছবিতে পরিণত হয়। তখন আর সেটি টাইপ করা বা খোঁজা যায় না। তফাতটা এখানেই। ইমোজি হলো জীবন্ত কোড, আর স্ক্রিনশট স্থির ছবি। কোড হওয়ার কারণেই চ্যাটে ইমোজি দিয়ে পুরনো মেসেজ খোঁজা যায় বা চটজলদি রিঅ্যাক্ট করা যায়। এটি মূলত লেখারই একটা ধরন।

আঁকার দায়িত্ব যেহেতু ফোনের নিজের, তাই একেক কোম্পানি ইমোজিকে একেকভাবে উপস্থাপন করে। Apple আর Samsung-এর হাসিমুখ হুবহু এক নয়; চোখের টান, ঠোঁটের বাঁক বা গালের রঙে টুকটাক পার্থক্য থাকেই। ব্যাপারটা হাতের লেখার মতো। দশজনকে একই শব্দ লিখতে দিলে দশ রকম দেখাবে; বানান এক হলেও গড়ন আলাদা। ইমোজির ক্ষেত্রেও তা-ই। ভেতরের কোড এক, কিন্তু চেহারা নির্ভর করে কোন ডিভাইস সেটি আঁকছে তার ওপর।

📖 নমুনা এখানেই শেষ

পুরো বইটা ৮০ পৃষ্ঠার — কিনলে সাথে সাথেই আপনার লাইব্রেরিতে চলে আসবে।

কিনে পুরোটা পড়ুন
🛒 কিনে পুরোটা পড়ুন